এবার রেকর্ড ৫ হাজার ১০০ ডলার ছাড়াল স্বর্ণের দাম

ভূরাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ঝুঁকির প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে বেড়েই চলেছে স্বর্ণের দাম। চলতি বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত অর্থাৎ এক মাসেরও কম সময়ে বেশ কয়েকবার রেকর্ড ছাড়িয়েছে মূল্যবান ধাতুটির বাজারদর।

ভূরাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ঝুঁকির প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে বেড়েই চলেছে স্বর্ণের দাম। চলতি বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত অর্থাৎ এক মাসেরও কম সময়ে বেশ কয়েকবার রেকর্ড ছাড়িয়েছে মূল্যবান ধাতুটির বাজারদর। এমনকি গতকাল বেচাকেনার একপর্যায়ে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো স্বর্ণের মূল্য আউন্সপ্রতি ৫ হাজার ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে।

স্পট মার্কেটে গতকাল স্বর্ণের দাম ২ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে আউন্সপ্রতি ৫ হাজার ৮৭ ডলার ৩৯ সেন্টে পৌঁছেছে। এদিন বেচাকেনার একপর্যায়ে মূল্যবান ধাতুটির দাম আউন্সপ্রতি সর্বোচ্চ ৫ হাজার ১১০ ডলার ৫০ সেন্টে পৌঁছায়। এ সময় ফেব্রুয়ারিতে সরবরাহ চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের ফিউচার মার্কেটে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৮৫ ডলার ৬০ সেন্টে।

বিশ্ববাজারে ২০২৬ সালে এক মাসেরও কম সময়ে স্বর্ণের দাম বেড়েছে প্রায় ১৮ শতাংশ। ২০২৫ সালজুড়ে মূল্যবান ধাতুটির দরবৃদ্ধির হার ছিল ৬৪ শতাংশ, যা ১৯৭৯ সালের পর সবচেয়ে বড় বার্ষিক বৃদ্ধি।

খাতসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, স্বর্ণের দামের এ উত্থানের পেছনে একাধিক কাঠামোগত কারণ কাজ করছে। বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তায় ব্যবসায়ীদের মধ্যে আপৎকালীন বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের চাহিদা বেড়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের (ফেড) সুদহার কমানোর প্রত্যাশায় এটি আরো আকর্ষণীয় বিনিয়োগ খাত হিসেবে জায়গা দখল করে নিয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বিশ্বের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর ধারাবাহিক ক্রয়। পাশাপাশি এক্সচেঞ্জ ট্রেডেড ফান্ডে (ইটিএফ) রেকর্ড বিনিয়োগপ্রবাহের কারণে স্বর্ণের দামের ঊর্ধ্বমুখী ধারা অব্যাহত রয়েছে।

স্যাকসো ব্যাংকের কমোডিটি স্ট্র্যাটেজি প্রধান ওলে হ্যানসেন বলেন, ‘মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপিত শুল্ক ও অন্যান্য আর্থিক নীতি নিয়ে অনিশ্চয়তা এখন স্বর্ণের দাম বাড়ার মূল চালিকাশক্তি।’

সর্বশেষ শুল্ক আরোপের হুমকিতে ট্রাম্প শনিবার বলেছেন, কানাডা যদি চীনের সঙ্গে কোনো বাণিজ্য চুক্তি বাস্তবায়ন করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র কানাডার ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করবে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, স্বর্ণের দাম চলতি বছরই আউন্সপ্রতি ৬ হাজার ডলারে পৌঁছতে পারে। ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও ভোক্তাদের চাহিদার কারণে দাম বাড়ার এ প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। এ বিষয়ে হেরাউস মেটালস জার্মানির প্রিশিয়াস মেটালসের ট্রেডার আলেকজান্ডার জাম্পফে জানান, যদি বাজারে কোনো সংকট তৈরি হয় তাহলে স্বর্ণের দাম আরো বাড়তে পারে। যদিও হঠাৎ কিছুটা কমে যাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।’

বিশ্ববাজারে গত বছর প্রতি আউন্স রুপার দাম বেড়েছে ১৪৭ শতাংশ। এ খাতে খুচরা বিনিয়োগকারীদের জোরালো অংশগ্রহণের পাশাপাশি সরবরাহ সংকট দাম বাড়ার পেছনে ভূমিকা রেখেছে।

স্পট মার্কেটে গতকাল রুপার দাম আউন্সপ্রতি রেকর্ড ১১০ ডলার ১১ সেন্টে পৌঁছায়। পরবর্তী সময়ে তা কিছুটা কমে আউন্সপ্রতি ১০৯ ডলার ৩৫ সেন্টে নেমে আসে, যা আগের দিনের তুলনায় ৬ দশমিক ২ শতাংশ বেশি। এ সময় প্লাটিনামের দাম ৪ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে আউন্সপ্রতি ২ হাজার ৮৮১ ডলার ৭৫ সেন্টে পৌঁছায়। বেচাকেনার একপর্যায়ে তা রেকর্ড ২ হাজার ৮৯৭ ডলার ৩৫ সেন্টে পৌঁছেছিল। এছাড়া গতকাল প্যালাডিয়ামের দাম আউন্সপ্রতি সর্বোচ্চ ২ হাজার ১২২ ডলার ৪৫ সেন্টে পৌঁছায়। পরে তা আউন্সপ্রতি ২ হাজার ১১১ ডলার ৯৩ সেন্টে নেমে আসে, যা আগের দিনের তুলনায় ৫ দশমিক ১ শতাংশ বেশি।

আরও